প্রথম ধাপে দেশের ৭৮ উপজেলায় ভোট আজ

496

আজ রোববার সারা দেশের ৭৮টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে উপজেলায়। সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে প্রথম ধাপে ৮৭টি উপজেলা পরিষদে নির্বাচন আয়োজনের তফসিল ঘোষণা করলেও এর মধ্যে উচ্চ আদালত ও কমিশনের নির্দেশে ছয়টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

এছাড়া তিন উপজেলার সব পদের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ওইসব উপজেলায়ও নির্বাচন হচ্ছে না। সে হিসেবে প্রথম ধাপে তফসিল ঘোষণা করা মোট ৮৭টি উপজেলার মধ্যে আজ ভোট গ্রহণ হবে ৭৮টি উপজেলায়। এসব উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫০ জন। ভোটকেন্দ্র থাকবে মোট ৫ হাজার ৮৪৭টি।

প্রথম ধাপের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ২০৭ জন, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৩৮৬ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৪৯ জন লড়ছেন।

এদিকে, প্রথম ধাপে ঘোষিত তফসিলের নির্বাচনে ১৫ জন চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানও ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছেন। তবে, জাতীয় নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন বয়কট করেছে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ কয়েকটি রাজনৈতিক জোট। উপজেলায় নির্বাচনে সব দল অংশ না নিলেও ভোটার উপস্থিতি ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান। গতকাল নির্বাচন ভবনে প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা জানান তিনি। বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশন ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ও নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি করেছে ইসি।

কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম হলে ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়ী করা হবে বলেও জানিয়েছে কমিশন। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভোটের এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও আনসারের সদস্যরা দায়িত্বে আছেন। প্রতি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের একজন কর্মকর্তাসহ ১৬/১৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তবে কোনো কেন্দ্রে প্রয়োজন মনে হলে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে বলেও জানান ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এসব সদস্য ভোটের আগে পরে মোট ৫ দিন নির্বাচনী এলাকাগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, ব্যাটালিয়ন আনসার, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও বিজিবির মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োজিত থাকবে।

এছাড়া, আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ নির্বাচনী অপরাধ বিচারের জন্য প্রতি উপজেলায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতি তিন ইউনিয়নে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভোটের আগে-পরে মোট ৫ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া তাৎক্ষণিক অপরাধ আমলে নিয়ে বিচারের জন্য প্রতি উপজেলায় তিন দিনের জন্য একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োগ করেছে কমিশন। প্রতিটি উপজেলায় সার্বিক নিরাপত্তা মনিটরিংয়ের জন্য রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে দুদিনের জন্য মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। ইসি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে থাকবে তদারকি সেল। কোনো উপজেলায় অনিয়মের খবর পাওয়া গেলে এই সেলের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সৌজন্যে : মানবজমিন