অভয়নগরের সাগর হত্যার প্রধান আসামী শিমুল পুলিশি ধরা ছোঁয়ার বাইরে

552

যশোর থেকে ফিরে আবু হামজা বাঁধন :
যশোর অভয়নগরের বহুল আলোচিত সাগর রায় হত্যার রহস্যের জট যখন কালো মেঘের আধাঁরে ঢেকে গিয়েছিল, ঠিক তখনই সত্যের সূর্য মিথ্যার মেঘকে বিলীন করে দিয়ে সত্যেকে উম্মোচিত করেছে। তরুণ যুবক সাগর রায়কে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলেদেয় অভয়নগর শংকরপাশা গ্রামের প্রদীপ খাঁ ও তার সহযোগিরা। তবে পরিকল্পিত এ হত্যা কান্ডের প্রধান আসামী শিমুল খাঁ এখনও পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ফলে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মামলার বাদী বাবলু রায় ও তার পরিবার।
মামলার বিবরনে প্রকাশ, যশোর অভয়নগর শংকরপাশা গ্রামের বাবলু কুমার রায়ের ছেলে সাগর রায় (১৯) এর সাথে প্রতিবেশি প্রদীপ খাঁ এর কণ্যা অনামিকা খাঁ (শুকলা) এর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠার এক পর্যায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু অনামিকার পিতা প্রদীপ খাঁ এই বৈবাহিক সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তবে ঘটনার এক পর্যায়ে নাটকীয় কায়দায় সাগরের বিয়ের কিছুদিন পর অর্থাৎ ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারী প্রদীপ খাঁ তার জামাতা সাগর রায়কে বাড়ীতে দাওয়াত করে। ইন্ডিয়া থেকে আনা কিটনাশক সকালের নাস্তার সাথে মিশিয়ে জামাতা সাগর রায়কে খাওয়ানো হয়। ধীরে ধীরে সেই নাস্তা খেয়ে সাগর শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরে গিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সাগরের পরিবার সাগরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ভর্তির কিছু সময় পর সাগর রায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমায়। এদিকে সাগরের এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা ভেঙ্গে পড়ে। তবে তখন সাগরের মৃত্যুর মূল কারণ পরিবারের সদস্যরা বুঝতে না পেরে সাগরকে তার পিতা নিজ বাড়িতে সমাধিস্থ করেন। কথায় বলে সত্যে কখনও চাপা থাকে না। সাগরের মৃত্যুর কয়েকদিন পরেই সাগরের পিতা বাবলু কুমার রায় সাগরের স্ত্রী অনামিকার কাঁন্না শুনতে পারে। তখন অনামিকা কাঁন্না বিজড়িত কন্ঠে তার মাকে বলেন“ তোমরা কেন আমার সাগরকে মেরে ফেললে ” এ তথ্য জানতে পেরে বাবলু কুমার রায় বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট অভয়নগর আমলী আদালত,যশোরে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ৭ জনকে আসামী করা হয়। আসামীরা হচ্ছে প্রদীপ খাঁ , জয়ন্তী খাঁ , শিমুল খাঁ , অনামিক খাঁ, বিমলা দাস, বিকাশ দাস ও শিবরা দাস । আসামীদের মধ্যে ৪জনকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও মামলার অন্যতম আসামী শিমুল খাঁকে পুলিশ আজও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই শেখ মোঃ রেফাতুল ইসলামের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, আসামীদের মধ্যে ৪জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা বর্তমান জামিনে আছে। বাদবাকি আসামীদের গ্রেফতারের জন্য সোর্স নিয়োগ রয়েছে। অতিসত্ত্বর গ্রেফতার করা হবে। অন্যদিকে সাগর হত্যা মামলার বিজ্ঞ আইনজীবি অজিত কুমার দাস জানান, মামলা পরিচালনা কালীন আমাকে মুঠোফোনে আসামীদের পক্ষ থেকে জীবননাশের হুমুকি প্রদান করা হয়েছে মর্মে এ বিষয়টিও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মামলার বাদী বাবলু কুমার রায় বলেন, আসামীরা জামিনে এসে আমাকে ও আমার পরিবারকে একাধিকবার জীবননাশের হুমকি দিয়ে চলেছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে তারা আমার বড় ছেলে সোম রায়কেও মেরে ফেলবে। এ বিষটি নিয়েও আমি বিজ্ঞ আদালতে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছি। সাগর হত্যার নেপথ্যে যারা রয়েছে তাদের প্রত্যেককে দেশের প্রচালিত আইনে শাস্তি দিতে হবে এমন দাবি এলাকাবাসীর।
সাগর হত্যা মামলার আসামীরা বর্তমান বহুল তবিয়তে রয়েছে। বাদি বাবলু কুমার রায়কে তারা কোনঠাসা করে রেখেছে। তবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা সাগর হত্যার মামলার বিষয়টি নিয়ে আরো একটু তৎপরতা বৃদ্ধি করলে ঘটনার সাথে জড়িতরা অচিরেই ধরা পড়বে এবং মামলা মুটিভ বের হয়ে আসবে। পরবর্তী প্রতিবেদন আসছে (চলমান)
#######