জেনেনিন কোন দেশের চাকরির প্রবেশের বয়স কত ?

2381

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সীসীমা এক এক রকম। যেমন উত্তর আমেরিকায় ৫৯ বছর বয়সেও একজন নাগরিক সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করতে পারেন। শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি চাকরিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪৫ বছর। ভারতে এই বয়সসীমা ৩৫ বছর। ইতালি, কাতার ও তাইওয়ানেও এই একই বয়সসীমার মানুষ সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়স ৩০ বছর। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩২ বছর। এ বছর এই বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।

এক্ষেত্রে তারা বেশ কিছু দেশের উদাহরণ তুলে ধরেন। সেখানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে। এর জবাবে সরকার এই বয়স ৩০ থেকে ৩২ বছর করার সিদ্ধান্ত নেয়। কয়েক মাস আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানবন্ধনে ওই দাবি জানায় বাংলাদেশ জেনারেল স্টুডেন্টস কাউন্সিল। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, তাদের এমন চাওয়া যৌক্তিক। কারণ দেশে গড় আয়ুস্কাল বৃদ্ধি পেয়েছে। আর বেশির ভাগ শিক্ষার্থী সেশনজটের কারণে যথাসময়ে তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারেন না। এক্ষেত্রে তারা চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমার উদাহরণ তুলে ধরে। বাংলাদেশে যখন মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৫ বছর, তখন সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল ২৭ বছর। যখন গড় আয়ু বেড়ে ৫০ বছরে দাঁড়ায় তখন এই বয়সসীমা করা হয় ৩০ বছর। এরপর আন্দোলনে থাকা সেই শিক্ষার্থীরা বলছেন, বাংলাদেশে গড় আয়ু বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৭২ বছর। ফলে সরকারি চাকরিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৫ বছর করা উচিত। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে হলে একজন নাগরিককে কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।

ওদিকে ২৭ শে জুন, পার্লামেন্টের একটি স্থায়ী কমিটি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর করার সুপারিশ করে। একই সঙ্গে অবসরের বয়সসীমা ৫৯ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করতে সুপারিশ করে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়য়ের প্রতি আহ্বান জানায় ওই কমিটি। বাংলাদেশ জেনারেল স্টুডেন্টস কাউন্সিলের আহ্বায়ক সেপ্টেম্বরে বলেছেন, তারা যোগাযোগ করার পর অনেক সরকারি কর্মকর্তা তাদেরকে নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো হবে।