খুলনায় জামায়াতের নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে

খুলনা-৫, খুলনা-৬ প্রার্থী চুড়ান্ত

384

খুলনায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রকাশ্য কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নেই। তবে অভ্যন্তরীণ সভা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করেছে দলটি। খুলনার দু’টি সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থী থাকলেও অন্য আসনগুলোতে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করতে চায় নেতা-কর্মীরা।
সূত্র জানায়, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তার পোস্টার ও প্যানা দেখা গেছে। যদিও এ আসনে বিএনপি’র একাধিক প্রার্থীও মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও অভিজ্ঞতার কারণে ২০ দলের প্রার্থী হিসেবে গোলাম পরওয়ারকে ধরে নিয়েছেন জামায়াতের নেতা-কর্মীরা।
অপর দিকে কয়রা ও পাইকগাছা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসনেও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়েছেন বর্তমানে কারান্তরীণ দলের নগর আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। এই আসনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জামায়াতের দলীয় এমপি ছিলেন তিনি। গত ৫ বছর ধরে নির্বাচনী প্রস্তুতি হিসেবে এলাকায় গণসংযোগ, ক্যালেন্ডার প্রস্তুত, পোস্টার প্যানা নিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন। খুলনা জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা প্রার্থীতার প্রত্যাশী হলেও মনোয়নের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী জামায়াত।
খুলনার অন্য চারটি আসনেও ২০ দল কেন্দ্রীক নির্বাচন প্রস্তুতি জামায়াতের রয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচনকালীন সময় ২০ দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে গঠিত পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে সদরসহ খুলনার অন্য আসনগুলোতে নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে চায় দলটি।
নগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মাস্টার শফিকুল ইসলাম বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনে জামায়াত অংশগ্রহণ করবে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী। খুলনা-৫ আসনে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও খুলনা-৬ আসনে দলের মহানগর আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ দলের প্রার্থী। অন্য আসনগুলোতে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করবেন কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী।
দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী দল। স্বাধীনতা পরবর্তী প্রায় সকল সংসদেই জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব ছিল। বর্তমানে আমাদের নিবন্ধন নেই। তবে জামায়াত কোন নিষিদ্ধ দল নয়। নিবন্ধনহীন বহুদল বাংলাদেশে রয়েছে, বড় দুই জোটেই রয়েছে। নিবন্ধনহীন দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আইন রয়েছে। আমরা আইন মেনেই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে চাই। জাতীয় নেতৃবৃন্দ সকলে মিলে ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলন করছে। সেখানে বিএনপি ২০ দলের প্রতিনিধিত্ব করছে।