দ্বিতীয় দফার সংলাপেও সংকটের ছাঁয়া

401

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দুই দফা সংলাপেও সংকটের কোনো সমাধান হলো না। ১৪ দল ও ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে সমস্যা সমাধানের জন্য। কিন্তু কেউ কাউকে ছাড় না দেয়ায় সংকট সেই তিমিরেই রইলো।

সর্বশেষ দ্বিতীয় দফা আলোচনা শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। তবে নির্বাচনকালীন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

সংলাপে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সংসদ ভেঙে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে ১০ জন উপদেষ্টাকে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। অন্যদিকে, এ প্রস্তাব আওয়ামী লীগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

বুধবার বেলা ১১টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা গণভবনে দ্বিতীয় দফা সংলাপ হয়। এর আগে, ১ নভেম্বর প্রথম দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। তবে ঐক্যফ্রন্ট সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তাব দেয়।

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, এই প্রস্তাব তারা নাকচ করেছেন। বলেছেন, ‘উই উইল নট গো বিয়ন্ড কনস্টিটিউশন।’

ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাব ‘নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার কৌশল’ হিসেবে দেখছেন কাদের। বলেন, ‘এতে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে আর এ সুযোগে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অংশ নেয়া দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম গণভবন থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্দিষ্ট কোনো সমাধান হয়নি। আরও সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। দুই পক্ষই তাদের অবস্থানে অনড়।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সংলাপ এখনও শেষ হয়নি, রাতে আরেকটা সংলাপ আছে। ২৫টি দল এখনও বাকি আছে। অনেক নতুন অ্যাপ্লিকেন্ট আছে। আমরা আর অ্যাকমোডেট করতে পারছি না। বাকি ২৫ দলের সঙ্গে রাতে সংলাপ হবে। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে তারা এসেছেন এবং আলোচনা হয়েছে। মন খুলে কথা বলেছেন তারা। আমরাও বলেছি। তাদের সঙ্গে এটা দ্বিতীয় দফার সংলাপ।’

কাদের বলেন, ‘আজকে তারা যে দাবিগুলো নিয়ে এসেছেন, নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার আগে তারা কিছু বিষয়ে নিশ্চয়তা চান। কিছু বিষয়ে ঐকমত্য চান। এছাড়া লেভেল প্লেইং ফিল্ড, বিদেশি পর্যবেক্ষক, রাজবন্দিদের মুক্তি- এসব বিষয়ে আমাদের নেত্রী বলেছেন, এসব দাবি মেনে নিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। শিডিউল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনই এসব করবে। তারাই লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করবে। আমাদের মন্ত্রীরা নিজেদের এলাকায় জাতীয় পতাকা ব্যবহার করবে না। সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেবে না। সর্কিট হাউস ব্যবহার করবে না, সরকারি গাড়ি ব্যবহার করবে না। কোনো প্রকার সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করবে না। অন্য এমপিদেরও কোনো ক্ষমতা থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘সংলাপ হয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চপর্যায়ের ব্যক্তি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে সংলাপ করেছেন। দেশের ইতিহাসে এ ঘটনা আর ঘটেনি। আলোচনা হয়েছে এবং আলোচনার পরিবেশটা ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ। আলোচনার পরিবেশে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি। এটাও একটা ইতিবাচক অগ্রগতি।’

‘কিছু কিছু দাবি আমদের মেনে নিতে আপত্তি নেই, সেটাও তো একটা অগ্রগতি। তবে আলোচনা চলবে, নির্বাচনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে যাবে। এর মধ্যে প্রয়োজনে আলোচনাও এগিয়ে যাবে।