কারখানা সংস্কারে ব্যর্থতায় বন্ধ হচ্ছে ৩ শতাধিক গার্মেন্টসের রপ্তানি

481

সি আইএন টিভি ২৪ ডেক্স ঃ 

দেশের ৩ শতাধিক গার্মেন্টসের রফতানি বন্ধের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। মূলত বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও ওসব প্রতিষ্ঠান কারখানার কাক্সিক্ষত উন্নয়ন ঘটতে ব্যর্থ হওয়ায় এমন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ওসব কারখানার বন্ড সুবিধা সংক্রান্ত সেবাও বন্ধ করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ জানানের উদ্যোগ নিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)। ওসব গার্মেন্টস সাব কন্ট্রাক্ট ভিত্তিতে পোশাক তৈরি করে থাকলেও বন্ড ট্রান্সফার সুবিধা বাতিল করা হবে। অভিযুক্ত গার্মেন্টসগুলোর মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএভুক্ত কারখানা রয়েছে ২১৫টি। কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কারখানার কাক্সিক্ষত উন্নয়নে ব্যর্থতার কারণে ইতিপূর্বে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকে সদস্যভুক্ত কারখানাকে দেয়া ইউডি (ইউটিলিটি ডিক্লারেশন) সংক্রান্ত সেবা প্রদানে নিষেধাজ্ঞার অনুরোধ জানিয়েছিল ডিআইএফই। কারণ ওই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কারখানাগুলোর রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়তো। কিন্তু বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ ওই নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর করেনি বলে।
সূত্র জানায়, বিগত ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় বহু শ্রমিক হতাহতের পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানা সংস্কারের জোর দাবি উঠে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরই ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের কাছে রপ্তানি করে এমন ২ হাজার ২শ’ কারখানা সংস্কারে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স নামে দুটি জোট গঠিত হয়। ওই জোটের কার্যক্রম এখন শেষ হওয়ার পথে। অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সভুক্ত কারখানাগুলোর সংস্কারে অগ্রগতি ৯০ শতাংশের উপরে। তবে ওই দুটি জোটভুক্ত ক্রেতাদের কাছে পোশাক রপ্তানি হয় না, এমন দেড় হাজার কারখানা সংস্কারের লক্ষ্যে ২০১৫ সালের শুরুতে উদ্যোগ নেয় সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়।
সূত্র আরো জানায়, যেসব কারখানার সংস্কার ২০ শতাংশের নিচে তাদের ক্ষেত্রে রফতানি এবং কোটা সুবিধা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে কারখানাগুলো সংস্কারে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি করতে পারলে ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে। ওই কারখানাগুলোর মালিক কিংবা প্রতিনিধিদের সঙ্গে গতবছরের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে অন্তত ৩২টি সভা করা হয়েছে এবং দুই দফা চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু বেশকিছু কারখানার সংস্কারের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় ইউডি ইস্যু বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হয়। আর ওই নিষেধাজ্ঞা ৩ মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির জানান, গার্মেন্টস কারখানা হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা সংস্কার করতে পারবে, তাকে তো মারার মানে হয় না। আর যারা সংস্কার করতে পারবে না, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে তাদের ‘এক্সিটের’ (বন্ধ করা) উপায় বের করতে হবে। সেই চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে একই প্রসঙ্গে ডিআইএফই’র মহাপরিদর্শক সামছুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, কারখানাগুলোকে বারবার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও কারখানার ভবনের কাঠামো, অগ্নি কিংবা বৈদ্যুতিক নিরাপত্তায় কাক্সিক্ষত অগ্রগতি হয়নি। বহুবার তাদের সঙ্গে সভা করা হয়েছে। তারপর তাদের সময়সীমাও বেঁধে দেয়া হয়েছে। এখন কারখানার শ্রমিকের নিরাপত্তা তথা দেশের ভাবমূর্তির স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।